উত্তর কলকাতা পরিক্রমা রুট: ভোরে শুরু, দুপুরে শেষ
উত্তর কলকাতার পুজো দেখার একটাই সঠিক সময় — ভোরবেলা। সকাল ছ’টায় শোভাবাজার মেট্রো থেকে শুরু করলে দুপুরের আগেই এগারোটা মণ্ডপ হয়ে যায়, আর লাইনে দাঁড়াতে হয় না বললেই চলে। সন্ধ্যেবেলা এই একই রুটে তিনটের বেশি পুজো দেখা প্রায় অসম্ভব।
রুটটা এই ক্রমে
শুরু: শোভাবাজার–সুতানুটি মেট্রো (নীল লাইন)। পুরোটাই হাঁটা, শেষ দুটোয় অটো নিতে পারেন। মোট সময় ৫–৬ ঘণ্টা, ধীরে চললে।
| 1 | কুমোরটুলি পার্ক সর্বজনীন কুমোরটুলি · শোভাবাজার–সুতানুটি — 0.9 কিমি থিম: ‘ও গঙ্গা তুমি বইছ কেন’ — নদীকে নিয়ে ভাবনা, শহরের প্রতিমা-পাড়া থেকেই। |
| 2 | কুমোরটুলি সর্বজনীন কুমোরটুলি · শোভাবাজার–সুতানুটি — 1 কিমি থিম: ‘মন দিয়ে দেখুন’ — কুমোরটুলির আর এক বড় পুজো, পার্কের পুজোর সঙ্গে একসঙ্গেই হেঁটে দেখা যায়। |
| 3 | আহিরীটোলা সর্বজনীন আহিরীটোলা · শোভাবাজার–সুতানুটি — 1.1 কিমি |
| 4 | বাগবাজার সর্বজনীন বাগবাজার · শোভাবাজার–সুতানুটি — 1.3 কিমি থিম: থিম নয়, সাবেকি — একচালা প্রতিমা ও ডাকের সাজ। শহরের প্রাচীনতম বারোয়ারি পুজোগুলির একটি ইচ্ছে করেই থিম করে না। |
| 5 | শোভাবাজার রাজবাড়ি শোভাবাজার · শোভাবাজার–সুতানুটি — 0.3 কিমি |
| 6 | জগৎ মুখার্জি পার্ক শোভাবাজার · শোভাবাজার–সুতানুটি — 0.5 কিমি থিম: ‘পাণ্ডুলিপি’ — হাতে লেখা পুঁথির পুরনো জগৎ। ভাবনা অভিজিৎ ঘটক, প্রতিমা অমল পাল। ৯০তম বর্ষ। |
| 7 | হাতিবাগান সর্বজনীন হাতিবাগান · শোভাবাজার–সুতানুটি — 0.7 কিমি |
| 8 | নলিন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন হাতিবাগান · শোভাবাজার–সুতানুটি — 0.8 কিমি |
| 9 | কাশী বোস লেন হাতিবাগান · শোভাবাজার–সুতানুটি — 0.9 কিমি |
| 10 | টালা প্রত্যয় টালা · বেলগাছিয়া — 1.5 কিমি থিম: ‘বিয়োজন’ — মায়ের কাছে পৌঁছনোর আগে জাগতিক মায়া ত্যাগ। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। ১০১তম বর্ষ, এবার ছোট ও নতুন জায়গায় মণ্ডপ — সকালে যাওয়াই ভালো। |
| 11 | টালা বারোয়ারি টালা · বেলগাছিয়া — 1.4 কিমি থিম: ‘বারোয়ারির দুর্গাবাড়ি’ — দুর্গাপুজোর নিজেরই ইতিহাস ও তার আধ্যাত্মিকতা। ১০৬তম বর্ষ। |
সময় কীভাবে ভাঙবেন
- ভোর ৬–৭: কুমোরটুলি। প্রতিমা-পাড়ার স্টুডিওগুলো তখন খোলা, শিল্পীরা শেষ মুহূর্তের কাজ করছেন — মণ্ডপের বাইরের এই দৃশ্যটাই অনেকের কাছে আসল আকর্ষণ।
- সকাল ৭–৮: আহিরীটোলা হয়ে বাগবাজার। বাগবাজারে তখন অঞ্জলি ও ঢাকের আসল মেজাজ। গঙ্গার ঘাট পাশেই, একটু বসে নেওয়ার জায়গা।
- সকাল ৮–৯: শোভাবাজার রাজবাড়ি। বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালানে ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, জুতো বাইরে খুলুন।
- সকাল ৯–১১: হাতিবাগান চত্বর — জগৎ মুখার্জি পার্ক, হাতিবাগান সর্বজনীন, নলিন সরকার স্ট্রিট, কাশী বোস লেন। চারটেই হাঁটাপথে, গলির ভিতরে।
- সকাল ১১–১২: টালা। অটোয় যান, হেঁটে গেলে ক্লান্ত লাগবে।
টালা প্রত্যয় এবার ১০১তম বর্ষে, মাঠ ছেড়ে রাস্তার উপরে ছোট জায়গায় মণ্ডপ করছে। ভিড় আগের মতোই হবে, জায়গা কম — সকালেই সেরে ফেলুন।
খাওয়াদাওয়া এই রুটে
ভোরে বেরোলে জলখাবার পাবেন পুঁটিরাম বা তেওয়ারি ব্রাদার্সের কচুরিতে। দুপুরে গোলবাড়ির কষা মাংস, মিত্র কাফের ফিশ ফ্রাই বা অ্যালেন কিচেনের প্রন কাটলেট — তিনটেই এই রুটের গায়ে। মিষ্টি নিতে হলে হাতিবাগানের নকুড়।
যাতায়াতের হিসেব
- মেট্রো: নীল লাইনে শোভাবাজার–সুতানুটিতে নামুন। সপ্তমী–নবমী মেট্রো প্রায় সারা রাত চলে, তবে চূড়ান্ত সময়সূচি মেট্রো রেল পুজোর ৭–১০ দিন আগে প্রকাশ করে।
- বাস: শ্যামবাজার ৫ মাথার মোড় উত্তর কলকাতার প্রধান হাব; বিধান সরণি ও অরবিন্দ সরণি ধরে সব বাস। ট্রাম রুট ৫ (শ্যামবাজার–এসপ্ল্যানেড) এই করিডরেই চলে।
- গাড়ি: পুজোর ক’দিন এই গলিগুলোয় গাড়ি ঢোকে না। মেট্রো বা অটোই একমাত্র বাস্তব রাস্তা।