দুর্গাপুজো ২০২৬: কোন মণ্ডপে কী থিম

শেষ যাচাই: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · Sahas & Co

কলকাতার বড় পুজোগুলো থিম আগলে রাখে মাসের পর মাস, তারপর খুঁটিপুজো থেকে মহালয়ার মধ্যে একে একে ঘোষণা করে। সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত যেগুলো সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, তার পুরো তালিকা এখানে — সঙ্গে কোনটা এখনও বাকি।

নিশ্চিত হওয়া থিম (28টি)

মণ্ডপ২০২৬-এর থিম
বাগবাজার সর্বজনীন
বাগবাজার
থিম নয়, সাবেকি — একচালা প্রতিমা ও ডাকের সাজ। শহরের প্রাচীনতম বারোয়ারি পুজোগুলির একটি ইচ্ছে করেই থিম করে না।
কুমোরটুলি পার্ক সর্বজনীন
কুমোরটুলি
‘ও গঙ্গা তুমি বইছ কেন’ — নদীকে নিয়ে ভাবনা, শহরের প্রতিমা-পাড়া থেকেই।
কুমোরটুলি সর্বজনীন
কুমোরটুলি
‘মন দিয়ে দেখুন’ — কুমোরটুলির আর এক বড় পুজো, পার্কের পুজোর সঙ্গে একসঙ্গেই হেঁটে দেখা যায়।
চালতাবাগান লোহাপট্টি
মানিকতলা
‘নিশান’ — ছত্তীসগঢ়ের রামনামী সমাজ, যাঁরা সারা শরীরে রামনাম উল্কি আঁকেন; মন্দিরে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদ থেকেই এই রীতির জন্ম। থিম সঙ্গীত: পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভাট।
জগৎ মুখার্জি পার্ক
শোভাবাজার
‘পাণ্ডুলিপি’ — হাতে লেখা পুঁথির পুরনো জগৎ। ভাবনা অভিজিৎ ঘটক, প্রতিমা অমল পাল। ৯০তম বর্ষ।
টালা প্রত্যয়
টালা
‘বিয়োজন’ — মায়ের কাছে পৌঁছনোর আগে জাগতিক মায়া ত্যাগ। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। ১০১তম বর্ষ, এবার ছোট ও নতুন জায়গায় মণ্ডপ — সকালে যাওয়াই ভালো।
টালা বারোয়ারি
টালা
‘বারোয়ারির দুর্গাবাড়ি’ — দুর্গাপুজোর নিজেরই ইতিহাস ও তার আধ্যাত্মিকতা। ১০৬তম বর্ষ।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার
বউবাজার
‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’ — বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা, আলো-শব্দ-ইনস্টলেশনে। শিল্পী: শিবশঙ্কর দাস।
চোরবাগান সর্বজনীন
চোরবাগান
‘বিয়ন্ড সাউন্ড’ — শব্দের ওপারে। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের এবারের তৃতীয় বড় থিম। ৯১তম বর্ষ।
একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাব
গড়িয়াহাট
গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ (৮৪তম বর্ষ)।
বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন
বালিগঞ্জ
‘যোজন’ — মানুষে-মানুষে ও চারপাশের সঙ্গে যোগ। মণ্ডপ গড়া হচ্ছে চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল, পুরনো ফ্লেক্স ও পুজোর ফুল দিয়ে। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। ৭৬তম বর্ষ।
সমাজসেবী সংঘ
লেক টেরেস
‘মহাপুজোয় মহানায়ক’ — উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে তাঁর ২০৮টি ছবির পোস্টার দিয়ে গড়া মণ্ডপ, সঙ্গে বিশেষ আবহসঙ্গীত। ৮১তম বর্ষ।
সুরুচি সংঘ
নিউ আলিপুর
‘উৎস’ — নিউ আলিপুরের এই পুজো এবারও মণ্ডপে চমক রাখার কথা বলছে। (সেপ্টেম্বরের গোড়ায় কিছু রিপোর্টে ‘পদ্ম’ বলা হয়েছিল।)
মুদিয়ালি ক্লাব
লেক মার্কেট
‘ঐতিহ্যের লোককথা’ — লোককথা ও তার বহন করা ঐতিহ্য।
শিবমন্দির সর্বজনীন
লেক মার্কেট
‘পরব’ — রাজস্থানের গণগৌর উৎসব; রাজস্থান না গিয়েই তার স্বাদ। ৯০তম বর্ষ।
আবাসর সর্বজনীন
লেক গার্ডেন্স
‘অন্য যেখানে অনন্যা’ — চিত্রশিল্পী শানু লাহিড়ীকে শ্রদ্ধা; মণ্ডপ ও প্রতিমা তাঁর জীবন ও কাজ থেকে।
আলিপুর সর্বজনীন
আলিপুর
‘রামায়ণ’ — রামের বনবাস, সীতাহরণ থেকে অকালবোধন পর্যন্ত গোটা মহাকাব্য মণ্ডপ জুড়ে। শিল্পী: অনির্বাণ দাস। ৮১তম বর্ষ।
বোসপুকুর শীতলা মন্দির
কসবা
‘চুপ’ — নীরবতাকে নিয়ে ভাবনা, ২০০১-এ ভাঁড় দিয়ে মণ্ডপ গড়া সেই পুজোর। ৭৭তম বর্ষ। (আগের রিপোর্টে ‘ধ্বংস’ বলা হয়েছিল।)
শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব
লেকটাউন
‘হাওয়া মহল’ — জয়পুরের প্রাসাদের মৌচাকের মতো সামনের দিক, ৯৫৩টি জানালা সমেত, লাল-গোলাপি রঙে। প্রতিমা এবার সাবেকি। ৫৪তম বর্ষ।
দমদম পার্ক তরুণ সংঘ
দমদম পার্ক
‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’ — বাংলার ব্যবসা ও উদ্যোগের গল্প। ৪১তম বর্ষ (গতবার ছিল ব্যোমকেশ)।
দমদম পার্ক ভারতচক্র
দমদম পার্ক
‘অন্তর্যামী’ — বাংলার পুরনো রথ ও তার বদলে যাওয়া রূপ; গুপ্তিপাড়া, মাহেশ সহ কম চেনা রথও। ২৬তম বর্ষ।
এ কে ব্লক সল্টলেক
সল্টলেক সেক্টর ২
‘অন্য কথা, অন্নের কথা’ — ট্যাগলাইন ‘অন্ন ঘ্রাণের অঙ্গীকার’; মণ্ডপে ঢুকলেই গরম ভাতের সুবাস।
সন্তোষপুর লেক পল্লী
সন্তোষপুর
‘তাণ্ডব’ — শিবের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের নৃত্য। শিল্পী: রিন্টু দাস। ৬৯তম বর্ষ।
পার্ক স্ট্রিট অ্যালেন পার্ক সর্বজনীন
পার্ক স্ট্রিট (অ্যালেন পার্ক)
শিব ও নটরাজের তাণ্ডব — সৃষ্টি ও প্রলয়ের ভাবনা; শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্ক স্ট্রিটে এই প্রথম দুর্গাপুজো।
কল্যাণী আইটিআই মোড়
কল্যাণী
মায়ানমারের সোয়ে তাও মিয়াত প্যাগোডার আদলে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু মণ্ডপ।
হিন্দুস্তান ক্লাব
গড়িয়াহাট
‘দুর্গাদালান’ — পুরনো বাঙালি বাড়ির থামওয়ালা দালান, যেখানে দুর্গা পূজিত হন। ৬৪তম বর্ষ।
তালতলা সর্বজনীন
তালতলা–জানবাজার
‘বন্দে মাতরম’ — শিল্পী অমিত ও অরিন্দম। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পাশাপাশি এই পুজোও বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পালন করছে।
সাউথ সিটি মল দুর্গোৎসব
প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড
‘যাত্রা’ — সাউথ সিটি মলের প্রথম দুর্গাপুজো, মলের সামনেই মণ্ডপ। ডিজাইন: শুভঙ্কর দত্ত।

এবারের কয়েকটা লক্ষণীয় দিক

এক শিল্পী, তিনটে বড় থিম

সুশান্ত শিবানী পালের নাম এবার তিন জায়গায় — টালা প্রত্যয়ের ‘বিয়োজন’, বালিগঞ্জ কালচারালের ‘যোজন’ আর চোরবাগানের ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। প্রথম দুটো নাম একে অপরের উল্টো: যোজন মানে জোড়া, বিয়োজন মানে বিচ্ছেদ। একটা শহরের উত্তরে, একটা দক্ষিণে — দুটোই দেখলে তুলনাটা পরিষ্কার হবে।

বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’ করছে, শিল্পী শিবশঙ্কর দাস। জানবাজারের তালতলা সর্বজনীনও একই উপলক্ষে থিম করছে। দুটোই মধ্য কলকাতায়, একসঙ্গে দেখে নেওয়া যায়।

স্থাপত্যের প্রতিরূপ

শ্রীভূমি এবার জয়পুরের হাওয়া মহল — ৯৫৩টা জানালা সমেত, আর প্রতিমা এবার সাবেকি। একডালিয়া বরাবরের মতো একটা বিখ্যাত মন্দির গড়ছে, এবার গুজরাটের সোমনাথ। কল্যাণী আইটিআই মোড় মায়ানমারের সোয়ে তাও মিয়াত প্যাগোডার আদলে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু মণ্ডপ করছে।

উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ

লেক মার্কেটের সমাজসেবী সংঘ ‘মহাপুজোয় মহানায়ক’ — উত্তমকুমারের ২০৮টা ছবির পোস্টার দিয়ে গড়া মণ্ডপ, সঙ্গে এই মণ্ডপের জন্যই তৈরি আবহসঙ্গীত।

যাদের থিম এখনও ঘোষণা হয়নি

হাতিবাগান সর্বজনীন, কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন, মহম্মদ আলি পার্ক, ত্রিধারা সম্মিলনী, চেতলা অগ্রণী ক্লাব, নাকতলা উদয়ন সংঘ, বর্ধমান পুজো সার্কিট — এই পুজোগুলো সাধারণত মহালয়ার আশেপাশে ঘোষণা করে। তবে কলেজ স্কোয়ারে পুকুরের জলে আলোর প্রতিফলন আর মহম্মদ আলি পার্কে বিশাল মণ্ডপ — এগুলোর টান থিমের উপর নির্ভর করে না।

থিম ঘোষণার পরেও মণ্ডপের চূড়ান্ত চেহারা বদলায়। বেরোনোর আগে অ্যাপে একবার দেখে নিন, প্রতিটি পুজোর কার্ডে টাটকা খবরের লিংক আছে।

সাধারণ প্রশ্ন

দুর্গাপুজো ২০২৬ কবে?

মহালয়া ১০ অক্টোবর, ষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর, সপ্তমী ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, অষ্টমী ১৯ অক্টোবর, নবমী ২০ অক্টোবর এবং দশমী ২১ অক্টোবর ২০২৬।

শ্রীভূমির ২০২৬-এর থিম কী?

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব এবার রাজস্থানের জয়পুরের হাওয়া মহলের আদলে মণ্ডপ করছে, ৯৫৩টি জানালা সমেত। প্রতিমা এবার সাবেকি ধাঁচের। এটি ক্লাবের ৫৪তম বর্ষ।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের থিম কী?

‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’ — বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর ও স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা, আলো, শব্দ ও ইনস্টলেশনে। শিল্পী শিবশঙ্কর দাস।

কোন পুজোগুলো এখনও থিম ঘোষণা করেনি?

কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্ক, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা সম্মিলনী, হাতিবাগান সর্বজনীন ও নাকতলা উদয়ন সংঘ সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। এরা সাধারণত মহালয়ার আশেপাশে ঘোষণা করে।

থিমের তথ্য কোথা থেকে নেওয়া?

পুজো কমিটির ঘোষণা ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই করা। যেগুলি ঘোষিত হয়নি, সেগুলিতে অনুমান না করে ‘ঘোষণা হয়নি’ লেখা থাকে।

📍 অ্যাপে ১৯২টি মণ্ডপ খুলুন — রুট, সময় ও থিম এক জায়গায়

আরও পড়ুন